* ভারত প্রশ্নে যা বলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা
* বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সমাবেশ
* ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের পদযাত্রা
* ভারতীয় শাড়ি রাস্তায় ছুড়ে আগুনে পোড়ালেন রিজভী
* ভারতে বাংলাদেশের ত্রিপুরা-কলকাতার হাইকমিশনারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
বাংলাদেশের ভারতের আগরতলায় অবস্থিত সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা ও ভাঙচুর এবং অব্যাহত মিথ্যাচারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীসহ রাজপথে নেমেছে নানা পেশাজীবি-রাজনীতি সংগঠনের পাশাপাশি ইসলামী দল-সংগঠনগুলো। এ সময় ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এরমধ্যে-গোলামী না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘হাইকমিশনে/আগরতলায় হামলা কেন, দিল্লি তুই জবাব দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আমরা কী চাই, আজাদি আজাদি’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি। এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ‘ঢাকা’।
ভারত প্রশ্নে যা বলছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা: বিক্ষোভে সমাবেশে অংশ নিয়ে সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের রাজা-প্রজার সম্পর্ক হতে পারে না। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার জন্য অবশ্যই ভারতকে ক্ষমা চাইতে হবে। তারা এও বলছেন, ভারতকে বলতে চাই এ দেশে আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই। সুতরাং তারা যেন আওয়ামী লীগের আমলের মতো করে এ দেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা ভারতের আধিপত্য মেনে নেব না। যেভাবে আমরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান রইলো। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে, এটাই প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের জনগণ। বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারতে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পলায়ন ও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নিতে ভারত ও শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির (শেখ মুজিব) কথা ধরেই বলবো, তুমি রিয়েলিটি মেনে নাও। যে দেশে বসে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সেই দেশকেও বলবো রিয়েলিটি মেনে নিতে। বাংলাদেশকে অস্থির করে কেউ শান্তিতে থাকতে পারবে না। শুক্রবার রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা জামায়াতে ইসলামি আয়োজিত কর্মী সম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একইসুরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা করে এক নগ্ন ইতিহাস রচনা করেছে। ভিয়েনা কনভেনশনের বিপরীতে গিয়ে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ভারত তাদের আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা বিশ্বসভ্যতা এবং ভদ্রতাকে ধারণ করে না। ভারত সরকারকে তাদের এমন নির্লজ্জ আচরণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের সর্বত্র বিদ্যমান। ভারতের তৈরি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ আমাদেরকে হত্যা করার জন্য ডাকসুতে হামলা করেছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখা যায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো অনেক সামরিক লোক হিন্দিতে কথা বলছে। ভারতের অনুগত হাসিনাকে রক্ষা করতে বিজেপি সরকার তাদেরকে এদেশে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি না খেয়েও মারা যায়, তবু দেশকে বিক্রি করবে না। ভারত বাংলাদেশে নিয়ে খেললে আমরা সেভেন সিস্টার নিয়ে খেলব। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হামলায় সেভেন সিস্টার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সমাবেশ: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। অথচ, ভারতে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের নির্যাতন করা হয়। তাই ভারতের উচিত আগে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করা। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে বাংলাদেশ তিসরী ইনসাফ দল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে দলটির নেতারা বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের বাড়াবাড়িতে ক্ষোভ জানিয়ে এসব কথা বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা কখনও হিন্দুদের মন্দির, পুজা-প্রার্থনায় আঘাত করে না। অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ বাংলাদেশ। হুঁশিয়ারি দেন, ভারত যদি বাংলাদেশ নিয়ে মনগড়া মিথ্যা বলা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলার মুসলমান সমাজ কঠিন জবাব দেবে।
ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের পদযাত্রা: ভারতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, আজমির শরিফ দখলের পাঁয়তারা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ নামের একটি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান দুই নম্বর গোল চত্বর থেকে শুরু হয় এই কমসূচি। পরে ইনকিলাব মঞ্চের তিন সদস্য দূতাবাসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বক্তরা বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যা ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করে বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ সময় বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা করেছে তারা। ভারত সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো দিন ভারতের তাঁবেদারি করবে না। ষড়যন্ত্র করলে কঠোর জবাব দেয়া হবে।
ভারতীয় শাড়ি রাস্তায় ছুড়ে আগুনে পোড়ালেন রিজভী: ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে ‘ভারতীয় শাড়ি রাস্তায় ছুড়ে ফেলে আগুনে পুড়ে’ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশীয় পণ্য, কিনে হও ধন্য’ শিরোনামে একটি সভায় এমনটা করতে দেখা গেছে রিজভীকে। সঙ্গে ছিলেন তার নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও। এ সময় সবাইকে দেশীয় পণ্য কেনার পরামর্শ দেন রিজভী। তিনি বলেন, ভারতীয় ভিসা বন্ধ করে বাংলাদেশ সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা একবেলা খেয়ে থাকব, তবুও মাথা নত করব না।
ফিরিয়ে আনা হয়েছে ত্রিপুরা-কলকাতার হাইকমিশনারকে: ভারতের কলকাতা ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে এই দুই বাংলাদেশি কূটনীতিককে ফিরিয়ে নিয়েছে ঢাকা। ভারতের পরিবর্তিত পরিস্থিতি আলোচনার জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফিরিয়ে নেয়া দুই কূটনীতিকরা হলেন ত্রিপুরার অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ ও কলকাতার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি হাইকমিশনার সিকদার মো. আশরাফুল রহমান। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি শূন্য হয়ে পড়েছে কলকাতা ডেপুটি হাইকমিশন। তবে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তাদের ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার নোটিশে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যেই ঢাকায় যোগদান করেছেন তারা। এরমধ্যে আশরাফুর রহমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গত ২৮ নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা চালায় একদল উগ্র ভারতীয়। হামলায় হাইকমিশনে পতাকা টাঙানোর পুল ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন দেয়া হয় জাতীয় পতাকায়। এরপরই অন্তর্বর্তী সরকার ওই হাইকমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

ভারতের হামলা ও বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ
বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা
- আপলোড সময় : ০৬-১২-২০২৪ ১১:৫৯:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১২-২০২৪ ১১:৫৯:০৬ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ